সুতার মতো দেখতে হার্টওয়ার্ম (হৃৎপিণ্ডের কৃমি) এত দিন দেখা যেত শুধু কুকুরের হৃৎপিণ্ডে। কুণ্ডুলী পাকিয়ে এসব কৃমি বìধ করে দিত হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচল। ফলে মৃত্যু হতো কুকুরের। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক দেখতে পান, কুকুরের এ প্রাণঘাতী কৃমি সংক্রমিত হয়েছে শিয়ালের দেহে। মশার মাধ্যমে ঘটেছে এ সংক্রমণ। গবেষকদ্বয়ের আশঙ্কা, হার্টওয়ার্ম একটি ‘জুনোটিক’ পরজীবী হওয়ায় এর মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে মানুষও। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো: আবু হাদী নূর আলী খান এবং তার এম এস ছাত্র ডা. মো: আবু ইউসুফ হার্টওয়ার্মের ওপর সম্প্রতি এ গবেষণা পরিচালনা করেন। তারা শিয়ালের হৃৎপিণ্ড পরীক্ষা করে দেখতে পান, এটি এক ধরনের পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হন এগুলো হার্টওয়ার্ম পরজীবী। সাধারণত কুকুর এসব হার্টওয়ার্মে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে শিয়ালের হৃৎপিণ্ডে এ ধরনের কৃমি পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। হার্টওয়ার্ম একটি জুনোটিক কৃমি হওয়ায় এটির মাধ্যমে মানুষেরও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষক ড. মো: আবু হাদী নূর আলী খান জানান, জুনোটিক রোগ হলো সেসব রোগ যেগুলো পশুপাখির দেহ থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। হার্টওয়ার্মের জীবনচক্র সম্পন্ন হতে একটি মধ্যবর্তী বাহকের প্রয়োজন হয়। সাধারণত মশা এর মধ্যবর্তী বাহক হিসেবে কাজ করে। হার্টওয়ার্ম জীবাণু বহনকারী মশা শিয়ালকে কামড়ানোর ফলে শিয়ালের দেহে এ কৃমি প্রবেশ করতে পেরেছে। একইভাবে এ জীবাণু বহনকারী মশা মানুষকে কামড়ালে মানুষের দেহও হার্টওয়ার্মে সংক্রমিত হতে পারে। তবে হার্টওয়ার্ম আক্রান্ত কুকুর ও শিয়ালের হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচল বìধ হলেও মানুষের ক্ষেত্রে এ কৃমিটি ফুসফুস নষ্ট করে দেয় যা মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এ ছাড়া এ পরজীবী দ্বারা মানুষ আক্রান্ত হলে রক্তে ‘পিরিওডিক ইউসিনোফিলিয়া’ দেখা যায়, যা রক্ত উপাদানের আনুপাতিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। আশঙ্কার কথা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসকারী অনেকের রক্তেই পিরিওডিক ইউসিনোফিলিয়া দেখা যাচ্ছে এবং খুশখুশে কাশির প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, হার্টওয়ার্ম পরজীবীর আক্রমণের কারণে এমনটি হতে পারে। তবে বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হতে আরো বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন।
দৈনিক নয়া দিগন্ত শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০০৯
Subscribe to:
Posts (Atom)